"পর্বত” শব্দের বহুবচন কোনটি?
"পর্বত” শব্দের বহুবচন কোনটি?
-
ক
পর্বতরাজি
-
খ
পর্বতমালা
-
গ
পর্বতসমূহ
-
ঘ
পর্বতপুঞ্জ
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, অপ্রাণিবাচক বা জড়বাচক শব্দের বহুবচন গঠনে নির্দিষ্ট কিছু সমষ্টিবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয়। 'মালা' শব্দটি সাধারণত বস্তুবাচক শব্দের বহুবচন নির্দেশে ব্যবহৃত হয়।
- সমষ্টিবাচক শব্দের প্রয়োগ: 'মালা' সমষ্টিবাচক শব্দটি সাধারণত পর্বত, মেঘ বা তরঙ্গ জাতীয় শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বহুবচন গঠন করে। যেমন: পর্বতমালা, মেঘমালা।
- প্রথাগত ব্যবহার: পর্বতের সমষ্টি বোঝাতে বাংলা ভাষায় 'পর্বতমালা' শব্দটিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও শুদ্ধ।
- পর্বতরাজি: 'রাজি' শব্দটি সাধারণত বৃক্ষ বা তারার ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহৃত হয় (যেমন: বৃক্ষরাজি)। পর্বতের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নেই।
- পর্বতসমূহ: 'সমূহ' একটি সাধারণ বহুবচনবাচক শব্দ হলেও পর্বতের জন্য 'মালা' অধিকতর পরিভাষা-নির্ভর ও প্রচলিত।
- পর্বতপুঞ্জ: 'পুঞ্জ' সমষ্টিবাচক শব্দটি মূলত দ্বীপ বা মেঘের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় (যেমন: দ্বীপপুঞ্জ)।
বহুবচন : যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে। যেমন : তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।
কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়। যেমন – গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি ।
বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর বেশিরভাগই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত ৷
প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক এবং ইতর প্রাণিবাচক ও উন্নত প্রাণিবাচক শব্দভেদে বিভিন্ন ধরনের বহু বচনবোধক
প্রত্যয় ও সমষ্টিবোধক শব্দ যুক্ত হয়। যেমন-
(ক) রা–কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে ‘রা’ বিভক্তির ব্যবহার পাওয়া যায়। যেমন- ছাত্ররা খেলা দেখতে গেছে। তারা সকলেই লেখাপড়া করে। শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।
যে ধরনের শব্দে ‘রা' যুক্ত, সে ধরনের শব্দের শেষে কোনো কোনো সময় ‘এরা' ব্যবহৃত হয়। যেমন মেয়েরা ঝিয়েরা একত্র হয়েছে। সময় সময় কবিতা বা অন্যান্য প্রয়োজনে অপ্রাণী ও ইতর প্রাণিবাচক শব্দেও রা, এরা যুক্ত হয়। যেমন – ‘পাখিরা আকাশে উড়ে দেখিয়া হিংসায় পিপীলিকারা বিধাতার কাছে পাখা চায়।” কাকেরা এক বিরাট সভা করল। -
(খ) গুলা, গুলি, গুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে যুক্ত হয়। যেমন – অতগুলো কুমড়া দিয়ে কী হবে? আমগুলো টক। টাকাগুলো দিয়ে দাও। ময়ূরগুলো পুচ্ছ নাড়িয়ে নাচছে।
(ক) উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ
গণ :দেবগণ, নরগণ, জনগণ ইত্যাদি ।
বৃন্দ : সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ ইত্যাদি ৷
মণ্ডলী: শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী ইত্যাদি।
বর্গ: পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ ইত্যাদি।
(খ) প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দে বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ
কুল : কবিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল ইত্যাদি।
সকল: পর্বতসকল, মনুষ্যসকল ইত্যাদি।
সব : ভাইসব, পাখিসব ইত্যাদি।
সমূহ: বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ ইত্যাদি।
(গ) অপ্রাণিবাচক শব্দে ব্যবহৃত বহুবচনবোধক শব্দ
আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি। যেমন-গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুস্তকাবলি, কবিতাগুচ্ছ, কুসুমদাম, কমলনিকর, মেঘকুঞ্জ, পর্বতমালা, তারকারাজি, বালিরাশি, কুসুমনিচয় ইত্যাদি ।
দ্রষ্টব্য : পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন - রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে ।
হস্তিযূথ মাঠের ফসল নষ্ট করছে।
Related Question
View All'পুষ্প' শব্দের বহুবচন কী?
-
ক
পুষ্পগুলি
-
খ
পুষ্পদাম
-
গ
পুষ্পগুচ্ছ
-
ঘ
পুষ্পকুঞ্জ
নীচের কোনটিতে বহুবচনের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে-
-
ক
সচিববৃন্দ
-
খ
সচিবগণ
-
গ
সচিবমণ্ডলী
-
ঘ
সচিববর্গ
'মানী' লোকের বেলায় বহুবচনে কী লগ্নক ব্যবহৃত হয়?
-
ক
মাল
-
খ
বৃন্দ
-
গ
সব
-
ঘ
রাজি
'নদী' শব্দের বহুবচন কী?
-
ক
নদীগুলি
-
খ
নদীসমূহ
-
গ
নদীরা
-
ঘ
নদীগণ
মেঘ শব্দের বহুবচন কোনটি?
-
ক
মেঘগুলো
-
খ
মেঘসমূহ
-
গ
মেঘমালা
-
ঘ
মেঘেরা
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে -
-
ক
একবচন বোঝাতে
-
খ
বহুবচন বোঝাতে
-
গ
একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
-
ঘ
প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন